সূর্য তখন কিছুটা পশ্চিম দিকে হেলে পড়েছে। ঘড়ির কাঁটায় সময় বেলা সাড়ে তিনটা। রাজধানীর চিরচেনা শাহবাগ মোড় যেন একেবারে অচেনা। নেই যানবাহনের দীর্ঘ সারি, নেই হর্নের অসহ্য শব্দ কিংবা হকারদের হাঁকডাক।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে বহু মানুষ ঢাকা ছেড়েছেন। বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তায় গণপরিবহন নেই বললেই চলে। মাঝেমধ্যে দু-একটি বাস কিংবা সিএনজিচালিত অটোরিকশা দেখা গেলেও তা যাত্রীশূন্য। অলিগলিতে কিছু ব্যাটারিচালিত রিকশার দেখা মিললেও যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছেন চালকেরা।
শাহবাগ মোড়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে যাত্রীর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলেন ৬৫ বছর বয়সী শামসুল হক। তিনি জানান, দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে রাজধানীতে চালক হিসেবে কাজ করছেন। ১৯৯১ সালে লালমনিরহাট থেকে ঢাকায় আসেন। শুরুতে তেলচালিত ট্যাক্সি চালাতেন, পরে সিএনজি অটোরিকশা চালানো শুরু করেন। এত বছরেও ঢাকাকে কখনো এত ফাঁকা দেখেননি। শামসুল হক বলেন, ‘অন্যান্য দিন এতক্ষণে মালিকের জমার টাকা উঠে যায়। আজকে মাত্র ৪০০ টাকা ভাড়া পেয়েছি। যাত্রীই নাই। মনে হচ্ছে বাসা থেকে টাকা এনে জমা দিতে হবে।’
ঈদের সময়ের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘ঈদের সময়ও মানুষে ভরপুর থাকে। এতক্ষণে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা ভাড়া হয়। আজ তো একেবারেই ফাঁকা। মানুষ সব বাড়ি চলে গেছে।’ প্রায় একই অভিজ্ঞতার কথা জানালেন বাস চালকের সহকারী জিয়াউর রহমান (৫০)। দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে বাসে কাজ করা জিয়াউর এখন মতিঝিল-টঙ্গী রুটে চলাচল করেন। শাহবাগে দাঁড়িয়ে ‘টঙ্গী, টঙ্গী—শেষ ট্রিপ’ বলে যাত্রী ডাকতে দেখা যায় তাঁকে।
আরও পড়ুন, আচরণবিধি লঙ্ঘনে রাজধানীতে ৫ জনকে কারাদণ্ড
তিনি বলেন, ‘এত ফাঁকা ঢাকা আগে কখনো দেখিনি, ঈদেও না। আজকে দেখি যাত্রীই নাই। যা ছিল, সব গতকাল বাড়ি চলে গেছে। এখন ঢাকা একদম খালি।’ ২০০১ সাল থেকে ঢাকায় রিকশা চালান মো. শাহেদ। থাকেন মোহাম্মদপুর এলাকায়। সাধারণত ঈদের সময় ভালো আয়ের আশায় তিনি গ্রাম যান না। কিন্তু এবার রাজধানীর চিত্র দেখে তিনি বিস্মিত। কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে মতিঝিল যাওয়ার পথে তাঁর সঙ্গে কথা হয়।
শাহেদ বলেন, আগে প্যাডেলচালিত রিকশা চালালেও দুর্ঘটনায় পায়ে আঘাত পাওয়ার পর থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালান। সাধারণত ঈদের সময় ভালো ভাড়া পাওয়ায় ঢাকায় থেকে যান। কিন্তু এবার নির্বাচন ঘিরে ঢাকাকে যতটা ফাঁকা দেখছেন, তেমনটা আগে কখনো দেখেননি।

মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সূর্য তখন কিছুটা পশ্চিম দিকে হেলে পড়েছে। ঘড়ির কাঁটায় সময় বেলা সাড়ে তিনটা। রাজধানীর চিরচেনা শাহবাগ মোড় যেন একেবারে অচেনা। নেই যানবাহনের দীর্ঘ সারি, নেই হর্নের অসহ্য শব্দ কিংবা হকারদের হাঁকডাক।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে বহু মানুষ ঢাকা ছেড়েছেন। বুধবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তায় গণপরিবহন নেই বললেই চলে। মাঝেমধ্যে দু-একটি বাস কিংবা সিএনজিচালিত অটোরিকশা দেখা গেলেও তা যাত্রীশূন্য। অলিগলিতে কিছু ব্যাটারিচালিত রিকশার দেখা মিললেও যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছেন চালকেরা।
শাহবাগ মোড়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা নিয়ে যাত্রীর অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলেন ৬৫ বছর বয়সী শামসুল হক। তিনি জানান, দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে রাজধানীতে চালক হিসেবে কাজ করছেন। ১৯৯১ সালে লালমনিরহাট থেকে ঢাকায় আসেন। শুরুতে তেলচালিত ট্যাক্সি চালাতেন, পরে সিএনজি অটোরিকশা চালানো শুরু করেন। এত বছরেও ঢাকাকে কখনো এত ফাঁকা দেখেননি। শামসুল হক বলেন, ‘অন্যান্য দিন এতক্ষণে মালিকের জমার টাকা উঠে যায়। আজকে মাত্র ৪০০ টাকা ভাড়া পেয়েছি। যাত্রীই নাই। মনে হচ্ছে বাসা থেকে টাকা এনে জমা দিতে হবে।’
ঈদের সময়ের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘ঈদের সময়ও মানুষে ভরপুর থাকে। এতক্ষণে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা ভাড়া হয়। আজ তো একেবারেই ফাঁকা। মানুষ সব বাড়ি চলে গেছে।’ প্রায় একই অভিজ্ঞতার কথা জানালেন বাস চালকের সহকারী জিয়াউর রহমান (৫০)। দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে বাসে কাজ করা জিয়াউর এখন মতিঝিল-টঙ্গী রুটে চলাচল করেন। শাহবাগে দাঁড়িয়ে ‘টঙ্গী, টঙ্গী—শেষ ট্রিপ’ বলে যাত্রী ডাকতে দেখা যায় তাঁকে।
আরও পড়ুন, আচরণবিধি লঙ্ঘনে রাজধানীতে ৫ জনকে কারাদণ্ড
তিনি বলেন, ‘এত ফাঁকা ঢাকা আগে কখনো দেখিনি, ঈদেও না। আজকে দেখি যাত্রীই নাই। যা ছিল, সব গতকাল বাড়ি চলে গেছে। এখন ঢাকা একদম খালি।’ ২০০১ সাল থেকে ঢাকায় রিকশা চালান মো. শাহেদ। থাকেন মোহাম্মদপুর এলাকায়। সাধারণত ঈদের সময় ভালো আয়ের আশায় তিনি গ্রাম যান না। কিন্তু এবার রাজধানীর চিত্র দেখে তিনি বিস্মিত। কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে মতিঝিল যাওয়ার পথে তাঁর সঙ্গে কথা হয়।
শাহেদ বলেন, আগে প্যাডেলচালিত রিকশা চালালেও দুর্ঘটনায় পায়ে আঘাত পাওয়ার পর থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালান। সাধারণত ঈদের সময় ভালো ভাড়া পাওয়ায় ঢাকায় থেকে যান। কিন্তু এবার নির্বাচন ঘিরে ঢাকাকে যতটা ফাঁকা দেখছেন, তেমনটা আগে কখনো দেখেননি।

আপনার মতামত লিখুন